Berlin Wall History | বার্লিন প্রাচীর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিশ্বাসের রূপকথা

Berlin Wall History in Bengali

জার্মানি একটি এমন দেশ যা দুনিয়াকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সময় সম্পূর্ণ রূপে বদলে দিয়েছিলো। তার সাথে সাথে জার্মানি সমস্ত ইউরোপকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছিলো। বার্লিন ওয়াল বানানো হয়েছিলো ক্যাপিটালিসম ও ন্যাশনালিসম ভাবনা থেকে।

বার্লিন ওয়াল এর কাহিনী শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর সমাপ্তি কাল থেকে মানে ১৯৪৫ সালে। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হতেই জার্মানিকে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিলো।

আর এই চার ভাগে ভিন্ন ভিন্ন দেশ জার্মানির ভূখণ্ড দখলে নিয়েছিলো যারমধ্যে রাশিয়া, গ্রেট ব্রিটেন, আমেরিকা ও ফ্রান্স। কিন্তু সমস্ত দেশের মধ্যমনি ছিলো বার্লিন যা কিনা সোভিয়েত সেনার কব্জায় ছিলো।

বার্লিন শহর পূর্ব জার্মানির মাঝখানে হওয়ার পড়েও শাসিত সোভিয়েত সেনা পুরো শহরের দাবি করেনি বরং দেশের রাজধানী হওয়ার কারণে সমান চার ভাগে ভাগ করা হয়েছিলো।

দুই জার্মানির জন্ম যেভাবে হয়

পরবর্তীতে May 23, 1949 সালে আমেরিকা, ফ্রান্স ও ব্ৰিটেন একত্রিত হয়ে বৃহত্তর ওয়েস্ট জার্মানিকে দেশ ঘোষণা করে নাম দেয় Federal Republic of Germany,(FRG) কিন্তু অবাক করে রাজধানী ঘোষণা করে ২ টি Born ও Barlin শহরকে ।

সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন দেখলো তাদের ইস্ট জার্মানির উপর দিয়ে ওয়েস্ট বার্লিনের অংশে মার্কিন সৈনিকদের আসা যাওয়া বেড়ে যাচ্ছে এবং ওয়েস্ট জার্মানির সাধারণ জনগণের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাই 7 October 1949 সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ইস্ট জার্মানিকে একটি নতুন দেশ ঘোষণা করলো নাম হলো German Democratic Republic (GDR) ।

তারই সাথে ওয়েস্ট জার্মানির সাথে ইস্ট জার্মান সীমান্ত সিল করেদেয়া হয় এবং নাগরিকদের আসা যাওয়া দ্বন্ধ করে দেয়। আমেরিকা ব্রিটেন ও ফ্রান্স এর বিরোধ করলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন তা মানেনি।

জার্মানি দুটি ভিন্ন ইস্ট জার্মানি ও ওয়েস্ট জার্মানি দেশে পরিণত হওয়ার কারণে বার্লিন শহরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

আমেরিকা তখন বাধ্য হয় এয়ার লিফটের মাধ্যমে তাদের ওয়েস্ট বার্লিন অংশের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে বাধ্য হয়। এই ঘটনা বার্লিন এয়ার লিফ্ট নামে বিখ্যাত হয়।

Fall of Berlin Wall History

1989 সালে সোভিয়েত উনিয়নের প্রেসিডেন্ট পরিবর্তিত হয়ে আসেন মিখাইল গর্বাচেভ (Mikhail Gorbachev) এই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন আর্থিক দিক থেকেও ক্রমশ দুর্বল হয়ে পরে।

মিখাইল গর্বাচেভ প্রেসিডেন্ট হয়ে আসার পরে সোভিয়েত রুশ প্রশাসন বিবৃতি প্রদান করে যে পরবর্তীতে যে কোনো রকম সমস্যা দেখা দেয় তাহলে সোভিয়েত রুশ আর্মি আর পাঠাবে না।

এই ঘোষণার কিছু দিনের মধ্যে পূর্ব জার্মানির জন সাধারণের মধ্যে নাগরিক অসন্তোষ দানা বাধতে থাকে ও জন বিক্ষোভের আকার নেয়।

রুশ প্রশাসনের সাহায্য ছাড়া আর্থিক ভাবে বিপর্যস্ত পূর্ব জার্মানির সরকার আর্থিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভ দমনে তাদের সেনা বাহিনীর অপ্রতলাটা ও দেখা দেয়। পূর্ব জার্মানি তখন ভিসার মাধ্যমে সীমান্ত খুলে দেয়া হবে বিবেচনা করে।

কিন্তু এই ঘোষণার সময় সারা দেশে লাইভ দেখানো হয়েছিলো তখন এক সরকারি আধিকারিক ভিসার কথা বলতে ভুলেযান এবং এই সময় এখন থেকে কায্যকর হবে বলে ঘোষণা করেন।

তার কিছুক্ষণের মধ্যেই চল্লিশ লক্ষ সাধারণ নাগরিক বার্লিন ওয়ালের সামনে হাজির হয়। এবং দেয়াল ভাঙ্গা শুরু করেন।

এভাবেই বার্লিন প্রাচীর পতনের সাথে সূচনা হয় এক নতুন অধ্যায়ের। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিদায় এবং দুই জার্মানির মিলনের মাধ্যমে শুরু হয় এক নতুন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের।

Read More

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here