জেফ বেজোস এর জীবনী | Jeff Bezos Biography in Bengali

Jeff Bezos Biography in Bengali

Jeff Bezos আমেরিকান বিজনেস ম্যাগনেট, শিল্প  উদ্যোগপতি  ও সমাজসেবক  বিশ্বের সবথেকে বড়  ই-কমার্স ওয়েবসাইট Amazon  এর ফাউন্ডার  এবং স্বত্বাধিকারী, 2018 সালে তিনি আমেরিকার আরো এক শীর্ষ ধনী মাইক্রোসফট এর প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী বিল গেটসকে পিছনে ফেলে প্রথমবার বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তির মর্যাদা লাভ করেন।

অ্যামাজন বর্তমানে লক্ষ লক্ষ পণ্যের একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট ভিত্তিক বিজনেস হলেও এর শুরু হয়েছিল শুধুমাত্র অনলাইনে বই বিক্রি করার  উদ্দেশ্যে,  অ্যামাজন শুরুর প্রথম মাসেই রেকর্ড পরিমান বই বিক্রি করতে সমর্থ হয় ও পরবর্তীতে ব্যবসায় ধারাবাহিকতায় আজকে তারা এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। জেফ বেজোস এর এই সাফল্যের কাহিনীটি অনুপ্রেরণাদায়ক আশা করি আপনারা সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে খুবই অনুপ্রাণিত হবেন।

Jeff Bezos biography bengali
Jeff Bezos, Image Credit: Wikipedia

জেফ বেজোসের প্রাথমিক জীবন

জেফ বেজোস এর জন্ম 12 জানুয়ারি 1964 সালে আমেরিকার নিউ মেক্সিকো স্টেটের  Albuquerque তে জন্মগ্রহণ করেন, তার পিতা টেড জর্গেনসন  আর মায়ের নাম জ্যাকলিন গ্রীস জর্গেনসন, জেফ বেজোস এর  মা খুব অল্প বয়সেই তাকে জন্ম দেন জেফ বেজোস এর জন্মের সময় তার মায়ের বয়স ছিল মাত্র 17 বছর, তার মা তখনো স্কুলের শিক্ষাজীবন শেষ করেননি খুব কম বয়সে মা হওয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়,  আর এই প্রতিকূলতার জন্য তার বাবা ও মায়ের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে যার প্রেক্ষিতে তার পিতা তাকে ও তার মাকে পরিত্যাগ করেন।

1968 সালে তার মা আবার বিবাহ করেন (Mike Bezos) মাইক বেজোস এর সাথে তখন জেফ বেজোস এর বয়স ছিল মাত্র 4 বছর পরবর্তীতে তার পরিবার টেক্সাস চলে আসেন জেফ বেজোস  সেখানেই বড়  হতে থাকেন, তার দ্বিতীয় পিতা মাইক তাকে খুব ভালোবাসতেন ও তার সাথে সময় কাটাবেন তিনি কখনোই তাকে বিভিন্নভাবে অনুভব করেননি নিজের সন্তানের মতোই আদর ভালোবাসা স্নেহ ও শিক্ষা দিয়েছেন।

বেজোস অল্প বয়স থেকেই সবকিছুকে খুব নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করত তার পিতা গ্যারেজে কাজ করতেন সেখানে তার বাবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বিভিন্ন জিনিস খোলা এবং লাগানোর চেষ্টা করতেন বেজোস এর পিতা তাকে তার আগ্রহের কাজে সব সময় অনুপ্রাণিত করে গেছেন।

জেফ বেজোসের শিক্ষা জীবন

বেজোস পড়াশোনায় খুবই অসাধারণ ছিলেন তিনি মাত্র ফোর্থ স্ট্যান্ডার্ড এ পড়ার সময় তার প্রথম কোম্পানি তৈরি করেন ড্রীম ইনস্টিটিউট নামে তার কোম্পানি এডুকেশনাল সামার ক্যাম্প পরিচালনা করত।

পরবর্তীতে কর্মসূত্রে তার পরিবার মিয়ামি ফ্লোরিডা তে চলে আসেন সেখানে তিনি অধ্যায়ন শুরু করেন  মিয়ামি পল মেট্রো হাই স্কুলএ, এই স্কুলে পড়াশোনার সময় তিনি সামার ভ্যাকেশনে ম্যাকডোনাল্ড রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম শেফের কাজ করতেন।

তার অসাধারণ প্রতিভার জন্য স্কুলে থাকাকালীন তিনি star lex s ও Silver night  মেডেল অর্জন করেন এছাড়াও তিনি আরো  অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক অর্জন করেন অসাধারণ প্রতিভা ও তার আগ্রহের জন্য তাকে মহাকাশ  গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে সুযোগ দেয়া হয় সেখানেও তিনি তার মেধার জন্য প্রশংসিত হন।

উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবন

ছোটবেলা থেকেই জেফ বেজোসের কম্পিউটারের প্রতি খুবই আগ্রহ ছিল আর তার জন্যই তিনি সেই সময়ের নামকরা প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি তে এডমিশন নেন সেখানে তিনি ডিগ্রী অর্জন করেন কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপরে, গ্রাজুয়েশন শেষ করার পরে তিনি নিউইয়র্ক শহরের ওয়াল স্ট্রিটে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন সেখানে তিনি তাঁর কর্ম দক্ষতা ও সততার জন্য খুব দ্রুততার সাথে পদোন্নতি অর্জন করেন মাত্র 30 বছর বয়সেই বেজোস  D E Show কোম্পানিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট এর পদে নির্বাচিত হন, এত কম বয়সে তার  অর্জিত অর্থের পরিমাণ প্রচুর হয়ে দাঁড়ায়।

জেফ বেজোসের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত

বেজোস কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পরে নিজেকে প্রশ্ন করেন এবার আমার পরবর্তী লক্ষ্য কি? আমি কি আরামের সাথে 60 বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করব নাকি আমি আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিশ্রম করে যাব,  আমি যদি চাকরির পথে থাকি কিংবা আমি নিজে ব্যবসা শুরু করি দুটোতেই আমি 60 বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করতে পারব কিন্তু এখন যদি আমি আমার স্বপ্নকে পূরণের জন্য পরিশ্রম না করি সেক্ষেত্রে 60 বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পরেও আমি কখনো শান্তিতে ঘুমাতে পারবো না তখন মনে হবে কেন আমি আমার স্বপ্নের জন্য পরিশ্রম করিনি কেন আমি আমার নিজের স্বপ্নকে বড় করিনি  নিজেকে প্রতিষ্ঠিত  করিনি, তার এই আত্মোপলব্ধির পরবর্তীতে তিনি নিজের স্বপ্নকে পূরণের লক্ষ্যে কোম্পানির পদ থেকে ইস্তফা গ্রহণ করেন ও নিজের কোম্পানি তৈরি করার জন্য প্রচেষ্টা শুরু করেন।

তার এই চমৎকার কাহিনীটি তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বিস্তারিতভাবে জানান বন্ধুরা এই কাহিনীটি খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক একটি কাহিনী কারণ জেফ বেজোস যে আত্ম উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন অনেকেই হয়তো সেটি ভেবে দেখবেন না কিংবা এত বড় রিস্ক নেয়ার চেষ্টা করবেন না কেননা একজন মানুষ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যান তখন সে আরাম এবং আয়েশ সঙ্গী করে নেন কর্মক্ষেত্র একবার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পরে পরবর্তীতে সে নিজের মতো করে আবার একটি ব্যবসা শুরু করার মত ভাবনা এবং সাহস অনেকের মধ্যেই থাকে না।

অ্যামাজন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা

5 July1994 সালে তিনি তার বাড়ির গ্যারেজে অ্যামাজন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, তার ব্যবসায়ে বিনিয়োগের জন্য তিনি বিভিন্ন বড় বড় আর্থিক বিনিয়োগ কোম্পানর কাছে ছুটেছিলেন কিন্তু তিনি কোনো বিনিয়োগ টানতে সমর্থ হন নি কারণ তিনি যে ব্যবসায়ীকেই তার পরিকল্পনার কথা বলেছেন তার সাথে সাথে তিনি এটাও বলেছেন যে তার এই ব্যবসায় লাভবান হওয়ার আসা মাত্র কুড়ি শতাংশ লস হওয়ার আশঙ্কা প্রায় 80% কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন তার আগে অনলাইনে বই বিক্রির এই প্রচেষ্টা কেউ করেনি তাই তার কাছে কোনো পুরনো ব্যবসার উদাহরণ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here