লালন ফকির সাঁইজীর জীবনী | Lalon Fakir Biography in Bengali

Lalon Fakir Biography in Bengali

বাউল সম্রাট লালন ফকির যিনি তার বিখ্যাত সব বাউল গানের মাধ্যমে মানবতার বাণী প্রচার করেছেন। বিখ্যাত এই বাঙালি বাউল সাধক ছিলেন একাধারে বাউল, সংগীতজ্ঞ, সমাজ সংস্কারক, দার্শনিক ও মানবতার প্রচারক, তার সমাজ দর্শন তার গানের মাধ্যমে তিনি সবার কাছে গেয়ে গেছেন।

lalon fakir bangla info
Lalon Fakir

লালন ফকিরের জীবনী – Lalon Fakir

লালন ফকিরের জন্ম স্থান, জীবন ও পরিবার সম্পর্কে কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য সূত্র পাওয়া যায়নি লালন নিজেও তার এই ব্যাক্তিগত তথ্য তার কোন অনুগামীকে জানাননি। তার রচিত ২৮৮ টি গানকেই তার জীবনের উপর গবেষণার তথ্য সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার গানের মাধ্যমে তিনি সকলের কাছে একজন ফকির লালন নামেই প্রচার পেয়েছিলেন তিনি তার বেশ কিছু গানে নিজেকে ফকির লালন নামেই উল্লেখ করেন।
তার জীবনের উপর বিভিন্ন সময় সেই সময়কার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকায় তার জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়ের সূত্র প্রকাশ করা হয়েছে কিন্তু তার কোনোটাই সঠিক প্রমানের এভাবে সঠিক বলে বিবেচিত হয়নি। তার জীবন পরিচয় তিনি কাউকে বলে যাননি।

কুষ্টিয়ায় লালনের আখড়া

লালন ফকির কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেউড়িয়াতে তার একটি বাউল আখড়া তৈরি করেন, এখানে তিনি তার অনুসারী সাথে তার আধ্যাতিক বিভিন্ন নীতি বিষয়ের আলোচনা করতেন। তার শিষ্যরা দূর দূরান্ত থেকে এখানে ছুতে আসতেন লালনের মুখে অধ্যাত্ম আলোচনা শোনার জন্য । এছাড়া ও তার জীবনকাল থেকেই আখড়ায় প্রতিবছর শীতের সময়কালে একটি মহোৎসবের আয়োজন করতেন যাকে তাদের ভাষায় ভান্ডারা বলা হয়। বিভিন্ন দূর দূরান্তের শহর ও অঞ্চল থেকে তার বাউল অনুগামী শিষ্যরা তার এই উৎসবে এসে অংশগ্রহণ করতেন। কিছুদিন ব্যাপী চলা এই উৎসবে অধ্যাত্ম আলোচনা সহ বাউল গানের আসার বসতো।

লালন ফকিরের ছবি

কুষ্টিয়ায় লালন ফকিরের বাসস্থান অঞ্চল ছিল কলকাতার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের জমিদারির আওতায় ঠাকুর পরিবারের পঞ্চম সন্তান জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাঙালি নাট্যকার, সংগীত স্রষ্টা, চিত্রশিল্পী, তিনি বিভিন্ন মানুষের প্রতিভার বিকাশে অবদান রেখেছেন।

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এর থেকে ১২ বছরের ছোট ছিলেন। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ৫ মে ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে লালন ফকিরের জীবদ্দশায় তার বজরা নৌকায় পদ্মা নদীতে ভ্রমণকালে লালনের একটি স্কেচ তৈরী করেন। আশ্চর্য জনক হলো এটাই লালন ফকিরের প্রথম ও শেষ চিত্র ছিল। লালনের এই ছবিটি আকার এক বছরের সমসাময়িক কালের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা এই চিত্রটি ভারতীয় মিউজিয়াম এ সংরক্ষিত রয়েছে

লালন ফকিরের মৃত্যু

লালন বার্ধক্য জনিত কারণে ১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর ১১৬ বছর বয়সে কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়াতে নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুর পূর্বে তার নির্দেশ অনুযায়ী তাকে সমাহিত করার সময় হিন্দু বা মুসলিম কোনো ধর্মের রীতি পালন করা হয়নি। তার ইচ্ছায় তার আখড়ায় একটি ঘরে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। তার সেই সমাহিত ঘরটি পরবর্তীতে সুন্দর করে গড়েতোলা হয় তার সেই সমাধি ঘরের পাশেই তার কাছের অনুগামী শিষ্যদের কবর রয়েছে।

ফরিদা পারভীন লালন গীতি সংগীতশিল্পী

বাংলাদেশের বিখ্যাত পল্লীগীতি সংগীতশিল্পী তিনি তার সংগীত জীবনে সংগীতের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ও বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন, তার গানের জনপ্রিয়তার একটি উল্লেখযোগ্য হচ্ছে তার গাওয়া লালন গীতি, লালন গীতির জন্য তার আলাদা একটি পরিচিতি তৈরী হয়েছে সমস্ত বাঙালি সমাজে।

আরও পড়ুনঃ

মহান বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর জীবনী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here